প্রিয়জন অসুস্থ হয়ে বিছানায় শুয়ে আছেন, ওষুধ চলছে, কিন্তু মনটা কিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছে না — এমন সময় আল্লাহর কাছে সরাসরি আরোগ্য চাওয়ার একটা তীব্র আকুতি জাগে মনে। নবীজি ﷺ নিজে অসুস্থ সাহাবীদের পাশে বসে যে নির্দিষ্ট দোয়াগুলো পড়তেন, তা জানা থাকলে এই কঠিন সময়ে অনেকটা মানসিক শক্তি ও ভরসা পাওয়া যায়।
এই লেখায় জানতে পারবেন শিফা কামনার প্রধান দোয়াগুলোর আরবি টেক্সট, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ, কখন ও কীভাবে এই দোয়া পড়বেন, এবং নিজের বা অন্যের জন্য আরোগ্য কামনায় এই আমল কীভাবে কাজে লাগাবেন।
শিফার দোয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ
অসুস্থতার সময় আল্লাহর কাছে সরাসরি আরোগ্য প্রার্থনা করা ইসলামে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। নবীজি ﷺ নিজে অসুস্থ সাহাবীদের দেখতে গিয়ে তাদের জন্য নির্দিষ্ট দোয়া পড়তেন এবং হাত দিয়ে তাদের শরীর স্পর্শ করে আরোগ্য কামনা করতেন। এই দোয়াগুলো শুধু শব্দের উচ্চারণ নয়, বরং আল্লাহর প্রতি সরাসরি নির্ভরতা ও আস্থার একটি প্রকাশ, যা রোগীর মানসিক শক্তি বাড়াতেও সহায়ক।
নবীজির শেখানো প্রধান শিফার দোয়া
নিচে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ও হাদিস-বর্ণিত শিফার দোয়াগুলো দেওয়া হলো।
দোয়া ১: আরবি: أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ، اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا
উচ্চারণ: “আযহিবিল বা’সা রব্বান নাস, ইশফি আনতাশ শাফি, লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা, শিফাআন লা ইউগাদিরু সাক্বামা।”
অর্থ: “হে মানুষের প্রতিপালক, কষ্ট দূর করে দিন, আপনিই আরোগ্যদানকারী, আপনার আরোগ্যদান ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই, এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।” (সহিহ বুখারি ৫৭৪৩)
দোয়া ২ (সাতবার পাঠের দোয়া): আরবি: أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ
উচ্চারণ: “আসআলুল্লাহাল আজিমা রব্বাল আরশিল আজিমি আই ইয়াশফিয়াক।”
অর্থ: “আমি মহান আল্লাহ, মহান আরশের প্রতিপালকের কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আপনাকে আরোগ্য দান করেন।” (সুনানে তিরমিজি ২০৮৩) — এই দোয়াটি অসুস্থ ব্যক্তির পাশে বসে সাতবার পড়ার নির্দেশনা হাদিসে বর্ণিত আছে।
দোয়া পড়ার সঠিক সময় ও পদ্ধতি
নিচের টেবিলে শিফার দোয়া কখন ও কীভাবে পড়বেন তা সংক্ষেপে দেওয়া হলো।
| পরিস্থিতি | পদ্ধতি |
|---|---|
| নিজে অসুস্থ হলে | নিজের ওপর হাত রেখে দোয়া পড়া |
| অন্য কেউ অসুস্থ হলে | তার পাশে বসে হাত রেখে সাতবার দোয়া ২ পড়া |
| প্রতিদিন নিয়মিত | সকাল-সন্ধ্যা দোয়া ১ পড়া |
| গুরুতর অসুস্থতায় | নিয়মিত উভয় দোয়া পড়া, চিকিৎসার পাশাপাশি |
দোয়ার পাশাপাশি রোগীর প্রতি করণীয়
শুধু দোয়া পড়াই নয়, অসুস্থ ব্যক্তির প্রতি নবীজির শেখানো আরও কিছু আচরণ অনুসরণ করা যায় — যেমন তার পাশে বসা, শারীরিকভাবে সান্ত্বনা দেওয়া, তার জন্য অন্যদেরও দোয়া করতে উৎসাহিত করা, এবং তাকে ধৈর্য ধারণের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া। এই সামগ্রিক যত্নই রোগীর মানসিক অবস্থাকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে বলে বিশ্বাস করা হয়।
ব্যবহারিক পরামর্শ
টিপস:
- দোয়াগুলো আগে থেকে মুখস্থ করে রাখুন, যাতে প্রয়োজনের সময় দ্রুত পড়তে পারেন
- অসুস্থ ব্যক্তির পাশে বসে দোয়া পড়ার সময় তার হাতে বা মাথায় হালকাভাবে হাত রাখুন
- দোয়ার পাশাপাশি চিকিৎসকের নির্দেশিত ওষুধ ও চিকিৎসা কখনোই বাদ দেবেন না
- পরিবারের অন্য সদস্যদেরও রোগীর জন্য দোয়া করতে উৎসাহিত করুন
- ধৈর্য ধরুন, আরোগ্যের সময় আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. শিফার দোয়া কি শুধু গুরুতর অসুস্থতায় পড়া হয়? না, সাধারণ অসুস্থতা থেকে গুরুতর অসুস্থতা — সব ক্ষেত্রেই এই দোয়া পড়া যায়।
২. সাতবার পড়ার দোয়াটি ঠিক কতবার পড়তে হবে? হাদিসে নির্দিষ্টভাবে সাতবার পড়ার নির্দেশনা এসেছে, তবে প্রয়োজনে বেশি পড়লেও কোনো সমস্যা নেই।
৩. নিজের জন্য এই দোয়া পড়া যায় কি? হ্যাঁ, নিজের অসুস্থতায় নিজের ওপর হাত রেখে এই দোয়া পড়া সম্পূর্ণভাবে অনুমোদিত।
৪. দোয়া পড়লে কি ওষুধ ছাড়াই সুস্থ হওয়া যায়? না, দোয়া চিকিৎসার বিকল্প নয়; এটি চিকিৎসার পাশাপাশি আধ্যাত্মিক সহায়ক অনুশীলন হিসেবে পড়া উচিত।
৫. অমুসলিম বা ভিন্ন ধর্মের রোগীর জন্য কি এই দোয়া পড়া যায়? এই দোয়া মূলত নিজের মনের প্রশান্তি ও আল্লাহর কাছে প্রার্থনার জন্য পড়া হয়, তাই এ বিষয়ে স্থানীয় আলেমের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।
শেষ কথা
শিফার দোয়া অসুস্থতার কঠিন সময়ে মানসিক শক্তি ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা বাড়ানোর একটি সুন্দর মাধ্যম, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ও চিকিৎসা সবসময় অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। এ বিষয়ে আরও জানতে বা সুনির্দিষ্ট পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন —
📞 +880 1313-882464 | ✉️ assunnahhealthcare@gmail.com
আল্লাহ আপনাকে ও আপনার প্রিয়জনদের দ্রুত আরোগ্য দান করুন। আমিন।









