কখনো কখনো যাদুর সন্দেহে বাড়ির কোথাও সুতা বা কাপড়ে বাঁধা একাধিক গিঁটওয়ালা কোনো বস্তু পাওয়া যায়, আর তখনই মনে প্রশ্ন জাগে — এই “গিঁট” আসলে কী, আর এটি নষ্ট করার সঠিক ইসলামি পদ্ধতি কী? কুরআনেই এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, যা জানা থাকলে অহেতুক ভয় বা বিভ্রান্তি এড়ানো যায়।
এই লেখায় জানতে পারবেন কুরআনে “গিঁটে ফুঁ দেওয়া” প্রসঙ্গে কী বলা হয়েছে, জাদুর গিঁট নষ্ট করার রুকইয়াহ পদ্ধতি কী, এবং সঠিক নিয়মে কীভাবে এই আমল করবেন।
কুরআনে জাদুর গিঁটের প্রসঙ্গ
সূরা ফালাকে আল্লাহ বলেছেন, “এবং গিঁটে ফুঁ দেওয়াকারিণীদের অনিষ্ট থেকে (আমি আশ্রয় চাই)” (সূরা ফালাক, আয়াত ৪)। তাফসিরকারকদের মতে, এখানে সেই সব জাদুকরের কথা বলা হয়েছে যারা সুতা বা চুলে গিঁট দিয়ে তাতে মন্ত্র পড়ে ফুঁ দিয়ে যাদু করত। এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ এই ধরনের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন, যা থেকে বোঝা যায় জাদুর গিঁটের বাস্তবতা কুরআনেই স্বীকৃত।
জাদুর গিঁট কী এবং কীভাবে চেনা যায়
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, জাদুর গিঁট সাধারণত সুতা, চুল বা কাপড়ে একাধিক গিঁট দিয়ে তৈরি করা হয়, যার সাথে কখনো কখনো অন্য বস্তুও (পুঁতি, কাগজ) জড়ানো থাকতে পারে। এই ধরনের বস্তু যদি অস্বাভাবিক জায়গায় (বিছানার নিচে, ঘরের কোণে, মাটির নিচে) পাওয়া যায়, তাহলে অনেকে একে জাদুর গিঁট হিসেবে সন্দেহ করেন। তবে মনে রাখা জরুরি, প্রতিটি সুতা বা গিঁটওয়ালা বস্তুই জাদুর গিঁট নয় — তাই সন্দেহ হলে শান্তভাবে যাচাই করে এগোনো উচিত।
জাদুর গিঁট নষ্ট করার রুকইয়াহ পদ্ধতি
গিঁট পাওয়া গেলে বা যাদুর সন্দেহ হলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা যায়:
- আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকুন
- সরাসরি খালি হাতে স্পর্শ না করে সাবধানে বস্তুটি তুলুন
- সূরা ফালাক ও নাস তিনবার করে পড়ে বস্তুটির ওপর ফুঁ দিন
- সম্ভব হলে প্রতিটি গিঁট আলাদাভাবে খুলে ফেলার চেষ্টা করুন, প্রতিটি গিঁট খোলার সময় সূরা ফালাকের প্রতিটি আয়াত পড়ার প্রচলন আছে
- সবশেষে বস্তুটি পুড়িয়ে বা অন্য কোনো নিরাপদ পদ্ধতিতে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে ফেলুন
গিঁট নষ্ট করার সময় ব্যবহৃত অতিরিক্ত আয়াত
নিচের টেবিলে গিঁট নষ্ট করার আমলে সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত অতিরিক্ত আয়াত-সূরা দেওয়া হলো।
| আয়াত/সূরা | ভূমিকা |
|---|---|
| সূরা ফালাক (সম্পূর্ণ) | সরাসরি গিঁটে ফুঁ দেওয়া জাদুকরদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় |
| আয়াতুল কুরসি | সার্বিক সুরক্ষা ও শক্তি বৃদ্ধি |
| সূরা আরাফ ১১৭-১২২ | জাদুকরদের কর্ম ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা স্মরণ |
| সূরা ত্বহা ৬৯ | জাদুকর সফল হবে না এই প্রতিশ্রুতি |
এই আমল করার সময় ব্যবহারিক পরামর্শ
টিপস:
- গিঁট খোলার সময় তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে ও বিশ্বাসের সাথে আয়াত পড়ুন
- একা করতে অস্বস্তি লাগলে বিশ্বস্ত পরিবারের কারো সহায়তা নিন
- বস্তুটি সম্পূর্ণ নষ্ট করার পর সেই স্থান পরিষ্কার করে সেখানে কিছুক্ষণ কুরআন তিলাওয়াতের ব্যবস্থা করুন
- এই প্রক্রিয়ার সময় বা পরে কোনো তীব্র শারীরিক-মানসিক প্রতিক্রিয়া হলে ভয় না পেয়ে ধৈর্য ধরুন
- নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যা সুরক্ষামূলক আমল চালিয়ে গিয়ে ভবিষ্যতে প্রতিরোধ করুন
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. কুরআনে জাদুর গিঁটের কথা কোথায় বলা হয়েছে? সূরা ফালাকের চতুর্থ আয়াতে “গিঁটে ফুঁ দেওয়াকারিণীদের অনিষ্ট থেকে” আশ্রয় চাওয়ার কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।
২. প্রতিটি গিঁট আলাদা করে খোলা কি বাধ্যতামূলক? বাধ্যতামূলক কোনো নিয়ম নেই, তবে প্রচলিতভাবে প্রতিটি গিঁট খোলার সময় আয়াত পড়ার অভ্যাস দেখা যায়, এটি ধৈর্য ও মনোযোগ বজায় রাখতে সহায়ক।
৩. গিঁট খোলার সময় ভয় লাগলে কী করব? শান্ত থাকুন, বিশ্বাস রাখুন যে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কিছুই ক্ষতি করতে পারে না, প্রয়োজনে বিশ্বস্ত কারো সাহায্য নিন।
৪. গিঁট নষ্ট করার পরও উপসর্গ থেকে গেলে কী করব? ধৈর্য সহকারে নিয়মিত আমল চালিয়ে যান এবং শারীরিক-মানসিক সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শও নিন।
৫. এই পদ্ধতি কি নিজে নিজে করা যায়, নাকি বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন? সাধারণ অবস্থায় নিজে নিজে করা যায়, তবে জটিল পরিস্থিতিতে বিশ্বস্ত ও কুরআন-হাদিসে জ্ঞানী কারো সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
শেষ কথা
জাদুর গিঁটের বাস্তবতা কুরআনেই স্বীকৃত, তাই এই ধরনের সন্দেহ হলে ভয় না পেয়ে সূরা ফালাক-নাসসহ প্রাসঙ্গিক আয়াত পড়ে ধৈর্য সহকারে সঠিক নিয়মে তা নষ্ট করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ। এ বিষয়ে আরও জানতে বা সুনির্দিষ্ট পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন —
📞 +880 1313-882464 | ✉️ assunnahhealthcare@gmail.com
আল্লাহ আপনাকে সর্বপ্রকার জাদু ও অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন। আমিন।









