হিজামা যে সুন্নাহ তা অনেকেই জানেন, কিন্তু নবীজি (সা.) নিজে ঠিক কবে, কোথায়, শরীরের কোন অংশে হিজামা করাতেন — এই বিস্তারিত ঘটনাগুলো অনেকেরই অজানা। অথচ হাদিসের কিতাবে এসব বিষয় বেশ স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে।
এই লেখায় জানতে পারবেন নবীজি (সা.)-এর হিজামা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট হাদিস-বর্ণিত ঘটনাগুলো, তিনি শরীরের কোন কোন অংশে হিজামা করাতেন, কাদের মাধ্যমে করাতেন, এবং এই ঘটনাগুলো থেকে আমরা কী শিক্ষা নিতে পারি।
নবীজির হিজামা করানোর নির্দিষ্ট ঘটনা
ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ হিজামা করাতেন এবং যিনি হিজামা করে দিতেন তাকে তার পারিশ্রমিক প্রদান করতেন (সহিহ বুখারি ২২৭৭)। আনাস (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে, নবীজি ﷺ আবু তাইবাহ নামক একজন সাহাবিকে দিয়ে হিজামা করাতেন এবং তাকে দুই সা’ পরিমাণ খাদ্যশস্য পারিশ্রমিক হিসেবে দিয়েছিলেন, এবং তার মালিকদের সাথে কথা বলে তার ওপর থেকে করের বোঝা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছিলেন (সহিহ বুখারি ২১০২)।
শরীরের কোন অংশে হিজামা করাতেন
হাদিসে বর্ণিত আছে, নবীজি ﷺ প্রধানত মাথার ওপরের অংশে এবং কাঁধের মাঝখানে (উভয় কাঁধের মাঝের অংশে) হিজামা করাতেন। আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন যে নবীজি মাথার তিনটি স্থানে ও ঘাড়ের কাছে হিজামা করাতেন। এছাড়া বিভিন্ন বর্ণনায় পায়ের পাতায়ও হিজামা করানোর উল্লেখ পাওয়া যায়, বিশেষত নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যার প্রেক্ষাপটে।
নিচের টেবিলে হাদিসে বর্ণিত হিজামার স্থানগুলো সংক্ষেপে দেওয়া হলো।
| শরীরের স্থান | প্রেক্ষাপট |
|---|---|
| মাথার ওপরের অংশ (ইয়াফুখ) | সাধারণ হিজামার সবচেয়ে বেশি উল্লেখিত স্থান |
| দুই কাঁধের মাঝখান | ঘাড় ও উপরের পিঠের অস্বস্তিতে |
| ঘাড়ের কাছে | মাথাব্যথা বা সংশ্লিষ্ট সমস্যায় |
| পায়ের পাতা | নির্দিষ্ট শারীরিক প্রেক্ষাপটে উল্লেখিত |
ইহরাম ও রোজা অবস্থায় হিজামা
ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইহরাম অবস্থায় হিজামা করিয়েছিলেন (সহিহ বুখারি ১৮৩৫)। এছাড়া তিনি রোজা অবস্থায়ও হিজামা করিয়েছিলেন বলে বর্ণিত আছে (সহিহ বুখারি ১৯৩৯)। এই ঘটনাগুলো থেকে বোঝা যায়, হিজামা করানো ইহরাম বা রোজার সাথে সাংঘর্ষিক কোনো কাজ নয় — যদিও রোজা অবস্থায় হিজামা নিয়ে কিছু আলেমের মধ্যে বিস্তারিত মতপার্থক্যও রয়েছে।
মিরাজের রাতে হিজামার নির্দেশনা
সুনানে তিরমিজিতে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, মিরাজের রাতে নবীজি ﷺ যেসব ফেরেশতার পাশ দিয়ে গিয়েছিলেন, তারা প্রত্যেকেই তাঁকে বলেছিলেন, “হে মুহাম্মদ, আপনার উম্মতকে হিজামা করানোর নির্দেশ দিন” (সুনানে তিরমিজি ২০৫০)। এই বর্ণনা থেকে হিজামার গুরুত্ব সম্পর্কে একটি বিশেষ ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যদিও এই নির্দিষ্ট হাদিসের সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
এই ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা
ব্যবহারিক টিপস:
- নবীজির অনুসরণ করে হিজামাকারীকে যথাযথ পারিশ্রমিক দিন, এটি তাঁর সুন্নাহ
- হিজামা করানো ইবাদত বা রোজার সাথে সাংঘর্ষিক নয়, তবে রোজার ক্ষেত্রে স্থানীয় আলেমের পরামর্শ নেওয়া ভালো
- মাথা ও কাঁধের অংশে হিজামা সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ও হাদিস-সমর্থিত স্থান
- হিজামা করানোর সময় বিশ্বস্ত ও প্রশিক্ষিত ব্যক্তির সাহায্য নিন, যেমন নবীজি করতেন
- হাদিসের সনদ ও বিস্তারিত বিধান জানতে নির্ভরযোগ্য আলেমের সাহায্য নিন
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. নবীজি কাকে দিয়ে হিজামা করাতেন? আনাস (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী আবু তাইবাহ নামক একজন সাহাবি নবীজিকে হিজামা করে দিতেন, এবং তিনি তাকে পারিশ্রমিক দিতেন।
২. নবীজি শরীরের কোন অংশে সবচেয়ে বেশি হিজামা করাতেন? হাদিসে মাথার ওপরের অংশ ও দুই কাঁধের মাঝখানে হিজামা করানোর কথা সবচেয়ে বেশি বর্ণিত আছে।
৩. রোজা অবস্থায় হিজামা করানো যাবে কি? নবীজি রোজা অবস্থায় হিজামা করিয়েছিলেন বলে হাদিসে বর্ণিত আছে, তবে এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে বিস্তারিত মতপার্থক্য থাকায় স্থানীয় আলেমের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
৪. ইহরাম অবস্থায় হিজামা করানো যাবে কি? হ্যাঁ, নবীজি ইহরাম অবস্থাতেও হিজামা করিয়েছিলেন বলে সহিহ হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে।
৫. মিরাজের হাদিসটি কি সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য? এই হাদিসের সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে, তাই এটি একটি সমর্থনকারী বর্ণনা হিসেবে দেখা ভালো, মূল ভিত্তি হিসেবে সহিহ বুখারির হাদিসগুলোই বেশি নির্ভরযোগ্য।
শেষ কথা
নবীজি (সা.)-এর হিজামা সংক্রান্ত এই ঘটনাগুলো শুধু ঐতিহাসিক তথ্য নয়, বরং আমাদের জন্য একটি ব্যবহারিক দৃষ্টান্তও — কীভাবে, কোথায় ও কার মাধ্যমে হিজামা করানো যায় তার একটি স্পষ্ট নমুনা। এ বিষয়ে আরও জানতে বা সুনির্দিষ্ট পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন —
📞 +880 1313-882464 | ✉️ assunnahhealthcare@gmail.com
আল্লাহ আপনাকে নবীজির সুন্নাহ অনুসরণের তাওফিক দান করুন। আমিন।









