রাত গভীর হয়েছে। হঠাৎ চোখ খুলে দেখেন, শরীরটা যেন জমে গেছে। মাঝরাতে হঠাৎ জেগে উঠি, মনে হয় কেউ পাশে বসে আছে। চারপাশে কোনো শব্দ নেই, শুধু নিজের শ্বাসের আওয়াজ। আপনি পাশে তাকান, কেউ নেই। তবু সেই অনুভূতি যায় না। এমন সময় কতবার ঘুম ভেঙেছে আপনার?
ঘুমানোর আগে মনের মধ্যে অস্থিরতা লেগে থাকে। স্বপ্ন ভাঙতে ভাঙতে ভয়টা আরো বেড়ে যায়। অনেকে বলেন দিনভর কাজের চাপে এরকম হয়। আবার অনেকের বিয়ের পর বাড়িতে নতুন সমস্যা শুরু হলে এই ভয় বাড়ে। আপনি হয়তো ভাবেন এটা শুধু মনে হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা অন্যরকম হতে পারে।
হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তার বলেন সব ঠিক আছে। তারপরও রাত ফিরে এসে একই অভিজ্ঞতা। এখন প্রশ্ন হলো এর আসল কারণটা কোথায়? মানসিক না আধ্যাত্মিক? এই অনুভূতির সাথে কতজন একা একা লড়ছেন, কেউ জানেও না।
কেন এই ভয়টা বারবার আসে?
প্রথমে মানসিক দিকটা বুঝে নেওয়া দরকার। দিনে অতিরিক্ত চিন্তা বা ক্লান্তি থাকলে রাতে মস্তিষ্ক পুরোপুরি ঘুমাতে পারে না। হঠাৎ জেগে উঠলে চারপাশের অন্ধকার মনে হয় ভয়ের জায়গা। এতে শরীরের প্রতিক্রিয়া ভয় দেখায়।
একজন ভাই বলছিলেন যে তিনি প্রায় পাঁচ মাস ধরে এই সমস্যায় ভুগছেন। প্রতি রাতে মাঝরাতে জেগে উঠতেন আর মনে হতো পাশে কেউ বসে আছে। তিনি চেষ্টা করেছেন বিভিন্ন ওষুধ খেয়ে কিন্তু স্থায়ী কোনো লাভ হয়নি। পরে তিনি নিয়মিত আয়াতুল কুরসি পড়া শুরু করেন।
কিছুদিন পর দেখেন ভয়ের তীব্রতা অনেক কমে গেছে। এই গল্প থেকে বোঝা যায় কখনো মানসিক চাপ, কখনো আরো গভীর কোনো কারণ থাকতে পারে।
মাঝরাতে হঠাৎ জেগে উঠি, মনে হয় কেউ পাশে বসে আছে: আধ্যাত্মিক দিক
ইসলাম বলে যে শয়তান বা জিনের ওয়াসওয়াসা মানুষের ভয়কে বড় করে তুলতে পারে। তারা চায় মানুষ ভয়ে কুরআন থেকে দূরে থাকুক। এজন্য রুকিয়াহ করা জরুরি। এটা শুধু পড়া নয়, বরং আয়াত দিয়ে মন ও ঘরকে পরিষ্কার করা।
যারা আল্লাহকে স্মরণ করে তাদের অন্তর শান্ত হয়।
ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস পড়লে এই ধরনের অনুভূতি অনেকটা কমে যায়। অনেকেই বলেন যে নিয়মিত এই আমল করার পর রাত্রে আরো শান্তি পেয়েছেন। আধ্যাত্মিক দিকটা উপেক্ষা করলে সমস্যা বাড়তে পারে।
এই ভয় কি মানসিক না আধ্যাত্মিক?
এ ধরনের অনুভূতি অনেক সময় মানসিক ক্লান্তি বা চিন্তার জন্য হয়। আবার যদি বারবার ঘটে এবং দোয়া দিয়ে কমে না তাহলে আধ্যাত্মিক প্রভাবও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে ঘরে রুকিয়াহ করা এবং নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত করলে স্বস্তি আসবে।
ঘুমানোর আগে কী করবেন?
ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল রেখে দিন। অজু করে শুয়ে পড়ুন। তারপর তিনবার করে সূরা ইখলাস, ফালাক আর নাস পড়ুন। আয়াতুল কুরসি একবার পড়লেও যথেষ্ট।
এছাড়া বিছানায় শুয়ে ডান দিকে ঘুরে শুতে চেষ্টা করুন। এতে শরীর শান্ত হয়। অনেকে এই পদ্ধতি চালু করার পর দেখেছেন যে রাত্রে ভয়ের অনুভূতি অনেক কমে গেছে।
যখন আরও সহায়তা দরকার
যদি এই সমস্যা প্রতি সপ্তাহে দু-তিনবার ঘটে এবং দিনভর মন খারাপ থাকে তখন নিজে চেষ্টা করার পাশাপাশি পেশাদার সাহায্য নেওয়া ভালো। রুকিয়াহ বিশেষজ্ঞ যারা কুরআনের আলোকে সমস্যা বুঝে সাহায্য করেন তারা অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।
লজ্জা বা ভয়ে সময় নষ্ট করবেন না। আল্লাহ চান আমরা উপায় নিয়ে এগিয়ে চলি। যখন আপনি সাহায্য চান তখনই আল্লাহর দরজা খুলে যায়।
মনে রাখবেন, এই ভয় আপনার থেকে বড় নয়। আল্লাহর সাহায্য নিয়ে আপনি এর থেকে মুক্তি পেতে পারেন।





